কবর খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া গেলো আরবি হরফের লেখা

সকল জেলা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মৃত ব্যক্তির কবর খোঁড়ার সময় কবরের মাটির দু’ধারে আরবি অক্ষরে লেখা পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় উপজেলার পশ্চিম পানিমাছ কুটি গ্রামে এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে সেখানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মোতায়েন করা হয় পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার মৃত আঃ জব্বার আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক এনজিওতে চাকরিরত অবস্থায় গত বুধবার (৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তার মরদেহ স্বজনরা নিয়ে এসে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় দাফন করার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় প্রস্তুতি নেন। বাদ যোহর তার মৃতদেহ দাফনের জন্য মাইকে প্রচার করা হয়। পরে, আব্দুল বাড়ী ও আমির আলী নামে দুইজন কবর খোঁড়ার শুরু করেন। কবরে বেশির ভাগ ছিলো বালুমাটি। কবরের ওপরের অংশ খোঁড়ার সময় বের হয়ে আসে আরবি অক্ষর। বিষয়টি প্রথমে তারা দেখে চমকে যান। পরে ধারালো অস্ত্র (বেখি) দিয়ে তারা যতবার মাটি কেটে দেন, কিন্তু লিখা বন্ধ না হয়ে পরিস্কার হয়ে ওঠে আরবি হরফগুলো। কবরের (দুই পাঁজরের) পশ্চিম পার্শ্বে লেখা রয়েছে বিসমিল্লাহ, সূরা ইয়াছিন অক্ষরের কিছু অংশ আর পূর্ব পাশে রয়েছে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম।

স্থানীয়রা আরো জানান, মৃত ওই ব্যক্তি এক সন্তানের জনক ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম হাজরা বেগম। সে এখন গর্ভপতী অবস্থায় রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকে তিনি পরহেজগার ও নামাজি ছিলেন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তিন নম্বর।

মৃতের বড় ভাই ইব্রাহিম আলী জানান, আমার ছোট ভাই নামাজি ছিলেন। আমার জানা মতে বেঁচে থাকা অবস্থায় সে কোনদিন মিথ্যা কথা বলেনি। তার স্ত্রী-সন্তানও নামাজ আদায় করেন নিয়মিত। ৮ বছরের ছেলেকে সে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিয়েছিলো। সে ওখানে পড়ালেখা করে।

উত্তর শিমুল বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরনবী জানান, কবরে আরবি অক্ষর লেখা আমার জীবনে দেখি নেই। এই প্রথম দৃশ্য চোখে পড়লো। এটা আল্লাহ’র অলৌকিক ঘটনা।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীর নন্দের কুটি চৌপথী জামে মসজিদের ইমাম (খতিব) ও বড়লই এলাকার হাফেজ মাওলানা আঃ হক জানান, কবরের দুই পাশে লেখা আরবি হরফগুলো আমরা নিজেরাই পড়েছি। এটা আল্লাহ প্রদত্ব ছাড়া বলা মুশকিল।

এ ঘটনায় ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাজিব কুমার রায় জানান, পুলিশ ফোর্স সেখানে অবস্থান করছে।

আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, খবর শুনার পর পুলিশকে জানানো হয়েছে  তারা নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবেন।

পরে দুপুরের পর ওই কবরেই ইসমাইল হোসেনকে দাফন করা হয়।