বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: স্বাধীন বাংলাদেশে মহানায়কের আগমন

বাংলাদেশ

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর একাত্তরের ষোলই ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি। কিন্তু যাঁর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল লাখো মানুষ, সেই অবিসংবাদিত নেতা তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি।

বিজয়ের বাইশ দিন পর, ঊনিশশো বাহাত্তরের আটই জানুয়ারি, কারাগার থেকে মুক্তি পান বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। লন্ডন-দিল্লী হয়ে ১০ই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে পা রাখেন মহানায়ক। বঙ্গবন্ধুকে বিদায় জানানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বারবার সম্পর্ক রক্ষার অনুরোধ জানাতে থাকেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টো।

দুজনের কথোপকথনের প্রত্যক্ষদর্শী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ড. কামাল হোসেন ডিবিসি নিউজের কাছে তুলে ধরেন সেই স্মৃতি।

বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা প্রথম যখন গেলাম তখন বঙ্গবন্ধু আমাদের বলেছে ভুট্টো তার সঙ্গে দেখা করেছে। তাকে রাজনীতি নিয়ে আলাপ করতে বলেছে কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছে পাকিস্তানে বসে সে কোন আলাপ করতে চায় না। দেশে ফিরে তারপর চিন্তা করবে তখন ভুট্টো তার পায়ে ধরে বলেছে কোন একটা সম্পর্ক রাখার জন্য। তিনি তখন বলেছেন আমি এখন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না, দেশে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিব।

লন্ডন-দিল্লী হয়ে দশই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে পৌঁছান জাতির পিতা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে প্রকম্পিত পুরো শহর। মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার জবাবে অশ্রুসিক্ত নয়নে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি (১৯৭০-৭২) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমরা ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে রওনা হলাম। চারদিক থেকে মানুষ শুধু তাকে অভিনন্দন এবং ফুল ছুড়ে দিয়েছিল। সে এক অবর্ণনীয় দৃশ্য।

মহানায়কের এই ফিরে আসার মাধ্যমে ঘোচে বাংলার স্বাধীনতার অপূর্ণতা।

ড. কামাল হোসেন বলেন, নেতা বা জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর যে অবস্থান ছিল আমাদের কাছে সেই জায়গাটা কেউই নিতে পারবে না। উনার একটা কথার যে মূল্য বা উনার প্রতি মানুষের যে আস্থা ছিল তা অন্যরকম ছিল। উনি কিছু বললে মানুষ তা সহজেই মেনে নিত।

তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীন বাংলাদেশে পা রাখেন আমাদের আবেগ,অনুভূতি, চেতনা এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিল যে
আমাদের মনে হল স্বাধীনতা যেন তার পূর্ণ রুপ ফিরে পেল।

তীব্র আবেগ-অনুভূতির মধ্যেও বাংলার মানুষকে দেশ গঠনে ঝাঁপিয়ে পড়ার মন্ত্র ছড়িয়ে দেন জাতির পিতা।