পরিবার বাদ সাধলেও আদালতে মিললো ভালোবাসার স্বীকৃতি

আইন ও কানুন

ভালোবেসে বিয়ে করেন চাঁদপুরের মেহজাবিন-কামাল। মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কামালের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা ঠুকে দেয় কনের পরিবার। গ্রেপ্তার হন দুজনেই।

মেহজাবিন-কামালের প্রেম পরিণতি লাভ করে ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারিতে। চাঁদপুরের এই যুগল ভালবেসে বিয়ে করলেও মহাপ্রাচীর হিসেবে আবির্ভূত হন মেয়ের মা। মামলা ঠুকে দিলে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কামালকে কারাগারে আর মেহজাবিনকে পাঠানো হয় টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। সেখানেই কন্যা সন্তানের মা হন মেহজাবিন। তিন মাস আগে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে কন্যা কাইফাকে জন্ম দেন মেহজাবিন। অবশেষে তিন মাস বয়সী কাইফা’র বদৌলতে দুপুরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে, ফের এক হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মা-বাবা।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে মা-মেয়েকে উচ্চ আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসএসসি পরীক্ষার্থী মেহজাবিনের কাছে আদালত জানতে চায়, তিনি স্বামীর বাড়িতে থাকবেন না বাবার বাড়িতে? জবাবে স্বামীর কাছে থাকার কথা জানালে অনুমতি দেন আদালত।

ভালোবাসাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেখার আহ্বান জানিয়ে আট মাস শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা মেহজাবিন জানান, তার মত আর কেউ যেন অমানবিকতার শিকার না হন। তিনি বলেন, ‘ওইখানে একটা মামলা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর ওনারা ওইখানে গিয়ে আমার ফ্যামিলিকে অনেক হ্যারাস করেছে। আমার পরিবার এক মাস বাসায় থাকতে পারেনি। আজকেই আমি আমার সন্তানের মুখ প্রথম দেখেছি। এতদিন আমার বুকের ওপর একটা পাথর ছিলো, এখন থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছি। ওকে যদি আমার কাছে আনতে পারি সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যাবো মনে করি।’

এদিকে, স্ত্রী-সন্তানকে ফিরে পেয়ে যারপরনাই খুশি ৫ মাস ১৭ দিন কারাভোগ করা কামাল। তিনি বলেন, ‘অনুভূতিটা আসলে কি প্রকাশ করার মত না। আমি এতটুকু বলতে পারি যে এরকম যেন কারো ফ্যামিলি না করে। আর্থিক ব্যাপারটাই বড় কিছু না, ভালোবাসাটাই সবচেয়ে বড় জিনিস। মা তো মা-ই , তবে আর কারো মা যেন এরকম না করে। হয়তোবা আম্মু রাগের বশে এমন করেছেন, তবে এতদূর করা উচিত হয়নি।’

কামালের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন জানান, মেয়েসহ মেহজাবিনকে স্বামীর কাছে বুঝিয়ে দিতে কচুয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। তিনি বলেন, ‘একটা বাচ্চা পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে ৩ মাস ধরে তার মায়ের সঙ্গে সেফ কাস্টোডিতে আছে, এটা খুবই পেইনফুল। সেই কনসিডারেশনে ভিকটিমকে তার হাজবেন্ডের কাছে দিতে পারেন। কোর্ট আমাকে বলেছেন, যেন কয়দিন পর মেয়ের ওপর অত্যাচার বা হাজবেন্ড যেন টাকা-পয়সা ক্লেইম না করে। আমি বলেছি এটা সতর্কতার সঙ্গে আমি দেখবো।’

তবে কামালের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলার কার্যক্রম চলমান থাকছে।