টিএসসি ভেঙে নতুন কাঠামো গড়ার পরিকল্পনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র বা টিএসসি ভেঙে নতুন কাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ার পর অনলাইনে জরিপ চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এখন চলছে, জরিপে প্রাপ্ত তথ্যের পর্যালোচনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-ঐতিহ্যের স্মৃতিচিহ্ন, শিল্প-সংস্কৃতির সূতিকাগার টিএসসি ভেঙে সম্প্রসারনের পরিকল্পনা করা হয় বেশ কমাস আগেই।

গ্রিক স্থপতি কনস্ট্যন্টিন ডক্সিয়াডেস এর ষাটের দশকের শুরুতে করা নকশায় পরিবর্তন আনার খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই পরিবর্তনের বিরোধীতার করে জানান,’সবকিছু আমরা ডেভেলপমেন্ট দিয়ে যদি চিন্তা করি, বড় বড় বিল্ডিং বানাতে হবে। উন্নয়ন করতে হবে। কনক্রিটের হতে হবে, এভাবে সবকিছু বিচার করলে হবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঐতিহ্য বলে একটা ব্যাপার আছে।’

তীব্র আবাসন সমস্যা জিইয়ে রেখে টিএসসির আধুনিকায়নের উদ্যোগের বিষয়েও অনেকে ক্ষোভ জানান। শিক্ষার্থীরা এ প্রসঙ্গে বলেন,’স্টুডেন্টের প্রেসার বাড়ছে বলে টিএসসিকে ভাঙ্গার চাইতে, হলগুলোকে এখন একটু প্রসার করা উচিত।’

শুধু ছাত্র শিক্ষক মিলন কেন্দ্রই না। টিএসসি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা কেন্দ্রও। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন,’ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে সাথে নিয়ে বেড়ে উঠবার অধিকার প্রত্যেক ছাত্রের আছে, প্রতিটি মানুষের আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পৃথিবীর আর দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করে যেন এটি সংস্কার করা হয়।’

গত মাসে কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে চেয়ে অনলাইনে জরিপ চালায়। জরিপ শেষ হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও ফলাফল জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম সিকদার বলেন,’প্রধানমন্ত্রী স্থাপত্য অধিপদপ্তরের প্রধান স্থপনতিকে নির্দেশ দিয়েছেন এটার নকশা তৈরী করতে আর গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন এটা ইমপ্লিমেন্ট করতে।’

স্থপতিরা বলছেন, টিএসসি ভবন না ভেঙ্গে কিভাবে আধুনিকভাবে গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে কাজ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে স্থপতি ইকবাল হাবিব জানান,’একদিকে শহিদ মিনার, একদিকে জগন্নাথ হলের চত্বর, একদিকে রোকেয়া হল সবকিছু মিলিয়ে একটা অসাধারণ সাংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক বলয় তৈরী হতে পারে। এই চিন্তাটা আমরা না করে, এই ভবনটিকে ভেঙ্গে এখানে একটা উচু ভবন বানানোর মানষিকতাটা জ্ঞাণ নির্ভর একটা ইন্সটিটিউশনে মানায় না।’

এই বিশ্ববিদ্যায়েই পড়েছেন পরে পড়িয়েছেন এমন একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন,’একটা জাতি যখন ঐতিহ্য হারায় তখন সে জাতি নিঃশ্ব হয়ে পড়ে। তখন সেই ঐতিহ্য ভাঙ্গার প্রক্রিয়াটা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে শুরু হয়, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজের ঐতিহ্যের সঙ্গেই বিরোধে লিপ্ত হবে। আমি মনে করি বুদ্ধিদীপ্ত কোন পরিকল্পনা নিলে এই জায়গার ভেতরে টিএসসিকে অনেক বেশি কার্যকর করা যাবে।’

ঐতিহ্য নাকি আধুনিকতা? নান্দনিকতা নাকি উন্নয়ন? কোন পথে হাঁটছে চায়ের কাপে ঝড় তোলা টিএসসি? অধিকাংশ শিক্ষার্থীর দাবি, টিএসসি থাক টিএসসির মতোই, আর যারা চান উন্নয়ন হোক, তারাও চান সমুন্নত থাক এর নান্দনিক নির্মানশৈলী।