বিনামূল্যে পিঠা খাওয়াবেন লিটন

সকল জেলা

ভ্রাম্যমান পিঠা বিক্রেতা লিটন বেপারী। চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র কালীবাড়ি কোর্টস্টেশন এলাকায় রেল লাইনের পাশে ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করেন তিনি। চলতি বছরটি তার জীবনে এসেছে বিশেষ একটি বছর হিসেবে। এ বছরই পূর্ণ হয়েছে তার পিঠা বিক্রির দুই দশক।

জীবিকা নির্বাহের এই বিশেষ সময়টিকে উদযাপন করতে লিটন নিয়েছেন এক বিশেষ উদ্যোগ। তার পিঠা বিক্রির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার তার ক্রেতাদেরকে বিনামূল্যে পিঠা খাওয়াবেন লিটন। শুধু মুখেই দাওয়াত দিচ্ছেন না, রীতিমত ক্রেতাদের নেমন্তন্ন জানিয়ে তা সাটিয়ে দিয়েছেন পিঠা তৈরির ঝুপড়িতে।

লিটনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়ে উচ্ছোসিত তার ক্রেতা ও পিঠাপ্রেমী মানুষ। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়েও ক্রেতাদের সাথে এই আচরণ লিটন বেপারীর বড় মনের পরিচয় বহন করে।

রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রি করেই চলে লিটনের সংসার। শুধু তাই নয়, পিঠা বিক্রির আয় থেকেই স্কুল, কলেজে পড়াশুনা করাচ্ছেন তার তিন মেয়েকে। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে শহরের মমিনপাড়া এলাকায় বসবাস করেন তিনি।

লিটন বেপারী বলেন, আগে শহরের পালবাজারে ১শ’ টাকা মজুরিতে কাঁচা মালের আড়তে কাজ করতেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি সেই কাজ ছেড়ে দিয়ে পিঠা বিক্রি শুরু করেন। ২০২১ সালে তার পিঠা বিক্রি জীবনের ২০ বছর পূর্ণ হয়। এই খুশিতে তিনি ক্রেতাসহ পিঠাপ্রেমী মানুষকে আগামী বৃহস্পতিবার বিনামূল্যে পিঠা খাওয়াবেন। এইদিন ক্রেতাদের জন্য চিতই পিঠার আয়োজন করেছি শুটকি ভর্তা, সরিষা ভর্তাসহ চার রকমের ভর্তা দিয়ে। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ফ্রিতে পিঠা বানিয়ে খাওয়ানো হবে। কোন ক্রেতাকেই তিনি পিঠা না খাইয়ে খালিমুখে পাঠাবেন না। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য পর্যপ্ত পরিমানে পিঠা তৈরি করার প্রস্তুতি নিয়েও রেখেছেন তিনি।

পিঠা বিক্রেতা আরো বলেন, “আসলে ফ্রিতে পিঠা খাওয়ার দাওয়াত দিলেও এটা আসলে পিঠাপ্রেমী মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা। এই দিন কোন ক্রেতাকে টাকা দিয়ে কিনে পিঠা খেতে হবে না। প্রত্যেককে আমি ওইদিন ভালোবেসে পিঠা খাওয়াবো।”

শীতের সময়টাতে পিঠা বিক্রি ভালো হলেও বছরের অন্যান্য সময়টাতে তেমন একটা হয় না। তখন তিনি পিঠা তৈরির পাশাপাশি কাঁচামাল বিক্রি, রিক্সা চালানোসহ বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত হন। শীতের সময়টাতেই ব্যবসা ভালো হয়। এসময় প্রতিদিন তিনি গড় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়ে থাকে। আগে ভাপা পিঠা তৈরি করলেও বর্তমানে শুধু চিতই পিঠাই তৈরি করেন, যা প্রতি পিস ৫টাকা করে বিক্রি করা হয়। আশপাশের ব্যবসায়ীসহ রিক্সা, অটোরিক্সা, সিএনজি চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তার তৈরিকৃত পিঠার স্বাদ নিতে প্রতিদিন ভীড় করে তার দোকানের সামনে, যোগ করেন পিঠা বিক্রেতা লিটন বেপারী।

কোর্টস্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী আ. মান্নান গাজী বলেন, লিটন ভাই দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকায় পিঠা বিক্রি করে আসছেন। আমার মত অনেক ব্যবসায়ী প্রতি দিন তার দোকানে আসেন পিঠা খেতে। তার হাতের তৈরিকৃত পিঠা অত্যন্ত সুস্বাধু, মানুষ হিসেবেও তিনি অত্যন্ত ভালো। তার পিঠা বিক্রির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার বিনামূল্যে তার ক্রেতাদের পিঠা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি। বিনামূল্যে পিঠা খাওয়ার সুযোগের চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তার এই ভালোবাসায়। এই দাওয়াতের মধ্যদিয়ে তিনি অনেক বড় ও উদার মনের মানুষের পরিচয় দিয়েছেন।

লিটনের পিঠার দোকানের ক্রেতা রিক্সাচালক জাহিদুল ইসলাম ও কাচাঁমাল বিক্রেতা অনুকূল বলেন, “সারা দিন কাজ শেষে সন্ধ্যার পরে আমরা লিটন ভাইয়ের দোকানে আসি পিঠা খেতে। অনেকই পিঠা বানালেও লিটন ভাইয়ের পিঠার স্বাদই আলাদা। তার পিঠা বিক্রির ২০ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী বৃহস্পতিবার বিনামূল্যে পিঠা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছেন। আমরা তার দাওয়াত পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছি।”