পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্প-বাইডেন এক পথে!

আন্তর্জাতিক

পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ট্রাম্পের সাথে বাইডেনের নীতিগত খুব একটা পার্থক্য থাকছে না। গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে । এমনকি কিছু ইস্যুতে বাইডেন তার পূর্বসূরি ট্রাম্পের পথ পুরোপুরি অনুসরণ করবেন বলেও মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের আসনে জো বাইডেন বসার পর থেকেই জল্পনা কল্পনা চলছে নতুন প্রশাসনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে। কারণ সামরিক- রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশটির বিদেশনীতির ওপর নির্ভর করে অনেক অঞ্চলের ভাগ্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সিনেট শুনানি হলো সম্প্রতি। আইনপ্রণেতাদের সামনে ব্লিঙ্কেনের উত্তরগুলোতে অনেকটাই স্পষ্ট, কি হতে যাচ্ছে বাইডেনের বৈদেশিক নীতি। 

ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ব্লিঙ্কেন বলেন, নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসন স্বঘোষিত অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোকেই সমর্থন দিয়ে যাবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাকে সর্বান্তকরণে সহায়তা দেন। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি গুয়াইদোকে।

সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এর আগে কাজ করা ঝানু এই কূটনীতিক শুনানিতে ইউক্রেন ইস্যুতে জানান, ট্রাম্পের মতো বাইডেনও ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে অস্ত্র দেয়া অব্যাহত রাখবেন । যদিও ওবামা প্রশাসনের শেষদিকে এ সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র ।ওবামার শঙ্কা ছিল, এ ধরনের অস্ত্র সহায়তা ইউক্রেন সংঘাতকে আবারো উস্কে দিতে পারে।
 
বিশ্বের আরেক পরাশক্তি রাশিয়ার সাথে সম্পর্কেও খুব একটা বরফ গলবে না। ব্লিঙ্কেন বলেন, জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে তেলের পাইপলাইন তৈরির যে কাজ চলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের মতোই, তার বিরোধিতা জারি রাখবেন বাইডেন। ট্রাম্পের ভয় ছিল, এতে রুশ নির্ভরতা বাড়বে ইউরোপের এবং অঞ্চলটিতে কমবে মার্কিন আধিপত্য। রাশিয়ার ওপর থেকে ট্রাম্প আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন না বাইডেন, সেটিও একরকম বলা যায়।
 
২০১৮ সালে তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে রাজধানী স্থানান্তর করে ইসরায়েল। বিশ্বজুড়ে নিন্দা আর সমালোচনার মধ্যেই এ ঘটনাকে স্বীকৃতি দিয়ে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ব্লিঙ্কেন নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্পের নীতিকেই বিবেচনা করছেন তারা।  

চার বছরে চীনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব ছিল অনেকটাই আক্রমণাত্বক। এমনকি দুই পরাশক্তি বাণিজ্য যুদ্ধেও জড়ায়। এখনো সম্পর্কের উত্তাপ রয়েই গেছে। নির্বাচনে জয়ের পর বাইডেন প্রশাসন উইঘুর ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানায়। আর সিনেট শুনানিতে ব্লিঙ্কেন জানান, চীন বিষয়ে নতুন প্রশাসনের পরিকল্পনা হয়তো উত্তরসূরিদের চেয়ে আলাদা হবে। কিন্তু মনোভাব আক্রমণাত্বকই থাকবে।

তবে ট্রাম্পের অসংখ্য ভুলের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতির অন্তত যে কটি সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবিদার, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দিতার কারনে, বাইডেনের কোনমতেই উচিত হবে না সেগুলো থেকে সরে আসা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গণমাধ্যমে এমনটাই বলছেন। যেগুলো হলো, উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা, মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সাথে অন্যান্য আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং আফগান ভূমি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাশপাশি তালেবানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো ।