অনলাইন ব্যবসার জন্য হচ্ছে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা’

আইন ও কানুন

অনলাইনে অর্ডার নিশ্চিত করার ১ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য পৌঁছাবে ক্রেতার কাছে। পণ্যের স্টকের হালনাগাদ তথ্য থাকবে ওয়েবসাইটে। ক্রেতার অভিযোগ নিষ্পত্তি হবে ৭২ ঘণ্টায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া করা যাবে না ভার্চুয়াল ওয়ালেট। এসব শর্ত জুড়ে দিয়েই ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা’ করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

অনলাইন শপিংয়ে গড়ে ৫০ হাজার পণ্যের ডেলিভারি হচ্ছে প্রতিদিন। লেনদেন বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। সম্ভাবনার ডিজিটাল কমার্সে এসেছে বিদেশি বিনিয়োগও। কিন্তু ক্রেতা আস্থা এখনো নিশ্চিত হয়নি পুরোপুরি।

অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনাবেচা, ফেরত ও পরিবর্তনের শর্ত সুষ্পষ্ট হলেই আস্থা আসবে বলছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস- বেসিস। সংস্থাটির সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা তো হয়েছে ২০১৮ সালে। এখন যেটা করা হচ্ছে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম। একটা গাইডলাইন করা হচ্ছে। এই রিফান্ড পলিসিটাকে যদি ইমপ্লিমেন্ট করা যায়, তাহলে ই-কমার্সের ব্যবসায় কেনাকাটা করতে ভোক্তাদের আস্থা বাড়বে।’

অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা’ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল। সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহসহ ক্রেতা অভিযোগ দ্রুত নিস্পত্তির মতো বিষয়গুলো।

ডব্লিউটিও সেল এর মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, ‘আগামী সপ্তাহে আমরা ওপেন করতে চাচ্ছি। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা একটা ফিক্সড টাইম সেট করতে চাচ্ছি যার মধ্যে ডেলিভারিটা হয়।’

ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা (সম্ভাব্য প্রস্তাবনা):

  • অর্ডার নিশ্চিতের ১-১৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ
  • পণ্য, সেবা কেনাবেচা, ফেরত ও পরিবর্তনের শর্ত সুস্পষ্ট
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগবে ভার্চুয়াল ওয়ালেটে
  • ওয়েবসাইটে পণ্যের স্টক ও তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ
  • ক্রেতার অভিযোগ সমাধান ৭২ ঘণ্টা সময়সীমা

ডিজিটাল কমার্সে পণ্য বিক্রিতে অনেক ওয়েবসাইটেই আছে আগ্রাসী প্রলোভন। এতে প্রতিযোগিতা বিরোধী অপরাধ হলে ব্যবস্থা নেবে কমিশন। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘যদি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে প্রতিযোগিতা বিরোধী ব্যবসা হয় তাহলে কি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। আমরা অনেকটা এগিয়েও গিয়েছি। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যেন সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য হয় তার জন্য আমরা আমাদের করনীয় যা তা করবো।’

ট্রেড লাইসেন্স না থাকলেও ফেইসবুকে পণ্য কেনাবেচায় ব্যবহৃত পেইজ, অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপেরও প্রাথমিক নিবন্ধন জরুরি। বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর আরো জানান, ‘ফেইসবুক বেইজড যে ই-কমার্সটা তাদেরকে যদি আমরা একটা ডেটাবেজ রেজিস্ট্রেশন এর মধ্যে নিয়ে আসতে পারি তাহলে যেটা হবে, তাদের একটা রেজিস্টার্ড ব্যবসা হলো। আর তারা ওই রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটা ডিসপ্লে করতে পারবে। ভোক্তা বুঝবে এটা একটা রেজিস্টার্ড ব্যবসা। তাহলে ভোক্তারা সেখান থেকে কিনার পর কোথাও একটা সমস্যা হলে জানাতে পারবে।’

দেশে ফেসবুককেন্দ্রীক পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে প্রতি বছরে প্রায় ৩১২ কোটি টাকা।