নারী সেনাদের হিজাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দক্ষিণ আফ্রিকায়

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলিম নারী সেনাসদস্যরা এখন থেকে হিজাব পরতে পারবেন। ইউনিফর্মের সঙ্গে যেন হিজাব পরতে পারেন, সে লক্ষ্যে পোশাক নীতিতে পরিবর্তন এনেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

হিজাব নিয়ে তিন বছর ধরে আইনি লড়াই শেষে আসা এই পরিবর্তনকে এক বড় বিজয় বলেই মনে করছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মেজর ফাতিমা ইসাকস। বিবিসি জানায়।

দেশটির সেনাবাহিনীর মেজর ফাতিমা ইসাকস মুসলিম নারী সেনাদের হিজাব পরার ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠায় ওই আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন । হিজাব পরার কারণে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেসব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে সেনাবাহিনী। বিদ্যমান পোশাক নীতিতে পরিবর্তন আনে কর্তৃপক্ষ। হিজার পরার অনুমতি পান মুসলিম নারী সেনারা।

গত বছর মেজর ইসাকসের ওপর থেকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয় সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে মাথায় আঁটসাঁট, একরঙা ও দুই কান না ঢেকে তাকে স্কার্ফ পরতে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় সেনা কর্তৃপক্ষ। যদিও তখন সেনাবাহিনীর পোশাক নীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন আনা হয়নি।

‘হিজাব খুলে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানো ও সেনাবাহিনীর বৈধ নির্দেশ অমান্য করায়’ মেজর ফাতিমা ইসাকসকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সামরিক হাসপাতালে একজন ফরেনসিক রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন ইসাকস।

নিজের ওপর থেকে অভিযোগ প্রত্যাহার করা ও সেনাবাহিনীর পোশাক নীতিতে ওই পরিবর্তন আনা বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকে এই নারী সেনা কর্মকর্তা বলেন, এটি শুধু তার একার বিজয় নয়। বরং ধর্মীয় বিধান পালন করার কারণে যারাই নীরবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছিলেন, এটি তাদের সবার বিজয়।

ফাতিমা ইসাকস বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি। যার অর্থ, ধর্মীয় কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা ঠিক নয়। আমি বিশ্বাস করি, ধর্ম একটা রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি। নীতির ওই পরিবর্তন এক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’ হিজাব ইস্যুতে তার মামলা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টারকেও (এলআরসি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেজর ইসাকস।