সারাইখানার মিস্ত্রি থেকে ঢাকার শীর্ষ মোটরসাইকেল চোরে পরিণত বাদল

বাংলাদেশ

মোটরসাইকেল চুরির সাম্রাজ্য বাদলের। ছয় জেলায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিক্রয় প্রতিনিধি।

সারাইখানার মিস্ত্রী থেকে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচায় হাতেখড়ি। আরও বেশি লাভের টানে চুরির পথে পা বাড়ানো। ছয় জেলায় নিয়োগ দেয়া হয় বিক্রয় প্রতিনিধি। অল্পদিনেই গড়ে ওঠে চুরির সাম্রাজ্য। গোয়েন্দাদের হাতে ধরাপড়ার পর বিল্লাল হোসেন বাদল নামের চোর জানায়, গেল চার বছরে তারা চুরি করেছে প্রায় আড়াইশো বাইক। এ থেকে হয়েছে কোটি টাকা।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই চোরের সতর্ক প্রহরা। আরেক চোর তখন মোটরসাইকেলের পাওয়ার সুইচের তার কেটে ডিরেক্ট লাইন করতে ব্যস্ত। পাঁচ মিনিটেই কাজ সারা। বাইক নিয়ে লাপাত্তা চোরেরা। এভাবেই ঢাকার উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইক চুরি করছে বিল্লাল হোসেন বাদল ও তার সহযোগীরা।

বাদলের কর্মজীবনের শুরু দুহাজার বারোতে, ময়মনসিংহে সারাইখানার মিস্ত্রি হিসেবে। কদিন বাদেই জড়িয়ে পড়েন চোরাই বাইক কেনাবেচায়। কেটে যায় চার বছর। দু’হাজার ষোলোতে ঢাকার উত্তরায় এসে আরেক চোর পলাশের সঙ্গে হাত মেলান। গড়ে ওঠে পলাশ-বাদল চোর চক্র। সম্প্রতি এক সহযোগীসহ গোয়েন্দাদের জালে আটকা পড়েন বাদল।

ঢাকার শীর্ষ বাইক চোর বিল্লাল হোসেন বাদল বলেন, চুরির সময় আমরা দুইজনকে নিয়ে যাই। একজনের কাজ হচ্ছে লোকজনকে পাহারা দেয়া আর আরেকজন বাইকের তালা কেটে সবকিছু ঠিক করে। তারপর আমার কাছে নিয়ে আসলে আমি নিয়ে যাই।

গোয়েন্দারা জানান, বাইক বিক্রির জন্য অন্তত ছয় জেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন বাদল। গেলো চার বছরে প্রায় আড়াইশো বাইক চুরির পর একেকটি বিক্রি করেছেন ৩৫-৪০ হাজার টাকায়।এভাবে আয় করেছেন প্রায় কোটি টাকা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরা বিভাগের সহকারী কমিশনার (গাড়ি চুরি প্রতিরোধ দল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, তারা এসব বাইক চুরি করে নিয়ে গিয়ে ঢাকার মধ্যে তাদের কিছু জায়গা আছে সেখানে লুকিয়ে রাখে। আর এসব বাইক তারা ঢাকায় বিক্রি করে না, আশেপাশের জেলাগুলোতে যেখানে তার প্রতিনিধি আছে সেখানে বিক্রি করে দেয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরা বিভাগের সহকারী কমিশনার কাজী শফিকুল আলম জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলসহ গাড়ি চোরদের বড় একটা অংশ বাদলের মত আগে সারাইখানার মিস্ত্রি ছিলেন।

বাইক চোরের শিরোমণি বাদলের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে গোয়েন্দা পুলিশ।