দুর্ধর্ষ অপহরণ চক্রের অভিনব কৌশল

বাংলাদেশ

অপহরণই নেশা, অপহরণই পেশা। অপহরণে জড়িত পেশাদার এই চক্রের প্রধান টার্গেট- পরিচিত ব্যক্তিরাই। পেশা আর আগ্রহ অনুযায়ী টোপ ফেলে একেক জনকে বাসায় নেয়ার পরই হাত-পা-চোখ-মুখ বেধে ফেলে অপহরণকারীরা।

ঢাকার দুর্ধর্ষ অপহরণ চক্র নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান, নিবিড় নজরদারির পর মেলে নিশ্চিত তথ্য। অপহণ চক্রের আস্তানায় হানা দেয় গোয়েন্দারা।

এ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, গেলো আট বছরে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে জিম্মি করেছে তারা। অস্ত্র ও গুলিসহ ধরা পড়ে এক অপহরণকারী। বাসা তল্লাশিতে মেলে চাকু, হাত-পা বাধার কেবল টাইসহ নির্যাতনের বিভিন্ন সরঞ্জাম। পরে একে একে ধরা পড়ে আরো আট সদস্য।

এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও অস্ত্র আইনে চারটি মামলা হয়েছে।

জানা যায়, অপহরণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। তার কাছে প্রায় একশ মানুষের জন্য খাবার অর্ডার দেন পরিচিত এক ক্রেতা। অগ্রীম টাকা নিতে ব্যবসায়ীকে বাসায় যেতে রাজি করান। তারপর ক্রেতাকে নিজের বাইকে তুলে গন্তব্যে রওনা দেন ব্যবসায়ী। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় পৌঁছে যান দুজন। তারপরই শিকারীর শিকার হন ব্যবসায়ী।

অপহৃত রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ভূপতি ভূষণ রায় বলেন, “দরজা খোলার পরই তারা আমার ওপর অতর্কিত হামলা করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে হাত,পা, চোখ বেধে ফেলে এবং মারধর করে।”

রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর মত আট বছর ধরে পেশা-আগ্রহ অনুযায়ী টোপ ফেলে প্রায় অর্ধশত পূর্ব পরিচিত ব্যক্তিকে বাসায় এনে জিম্মি করেছে এই চক্র। অপহরণ চক্রের সদস্যরা বলেন, দলনেতা জুয়েলকে অনেক টাকার প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। তিনি বুদ্ধি দিলেন অনেক টাকা পয়সা আছে এরকম কোন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে। এভাবেই তারা এই কাজগুলো করতেন। তাদের অনেক বড় সিন্ডিকেট যারা ক্লায়েন্ট এর ব্যবস্থা করে দেয়।

ঢাকার সবচেয়ে দুর্ধর্ষ অপহরণ চক্রের মূলহোতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুয়েল বাদে বাকি সব সদস্যই ধরা পড়েছে। এই চক্রের সেকেন্ড ইন কমান্ড সাদেকুল। রয়েছে নারী সদস্যও। প্রায় সবার বিরুদ্ধেই আগে থেকে ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তরা অঞ্চল) বদরুজ্জামান জিল্লু বলেন, “এরা সম্পূর্ণরূপে একটি পেশাদার চক্র। টাকার জন্যই এরা এসব কাজ করে থাকে। খুব গোছালো এবং অপহরণ ছাড়াও তারা বিভিন্ন ধরনের ক্রাইমের সাথে সম্পৃক্ত।”

জুয়েল বাহিনীর অপহরণের কৌশলে বিস্মিত গোয়েন্দারাও। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ,উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার কাজী শফিকুল আলম বলেন, দুই বছর আগের অপহরণ আর বর্তমান অপহরণ পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেক্ষেত্রে আমাদের একটু দেরি হলেও অপরাধী চক্রকে ধরতে পেরেছি। অনেক আগে থেকেই তারা এগুলোর সাথে জড়িত ছিল এবং সময়ের সাথে সাথে তাদের কৌশলও পরিবর্তণ হয়ে যায়।