প্রতারণায় শাহেদকে ছাড়িয়ে ২০ বছরের তরুণ দিপু!

বাংলাদেশ

স্কুলের গণ্ডি না পেরোনো ২০ বছরের তরুণের বহুমাত্রিক প্রতারণায় অবাক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।

ভোলার তরুণ আশরাফুল ইসলাম দিপুর প্রতারণার মামলার তদন্তে নেমে বিস্মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অষ্টম শ্রেণি পাশ, বয়স মাত্র বিশ। তার অভিনব প্রতারণায় শুধু সরকারি কর্মকর্তারাই বোকা হননি, সর্বস্বান্ত হয়েছে অনেক স্বল্প আয়ের পরিবারও। তিনদিনের রিমান্ড শেষে দিপুকে আরো দু’দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি পুলিশ।

গল্পের মতো শোনালেও প্রতারক আশরাফুল আলম দিপু জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআইয়ের পরিচালক পরিচয়ে সরকারি প্রটোকল নিয়ে কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। অসহায় মানুষের সঙ্গে করেন প্রতারণা। কখনও দুদক কর্মকর্তা, কখনও পুলিশের ডিআইজি নানা পরিচয়ে তার বিচরণ ছিলো দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

সরকারি উচ্চ কর্মকর্তাদের যেমন বোকা বানিয়েছেন, তেমনি চাকরি দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। এমনই কয়েকজন ভুক্তভোগী কথা বলেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে নীলফামারীর মমিনুর রহমান জানান, এনএসআইয়ে সহকারী পরিচালক পদে চাকরির প্রলোভনে সহায়-সম্বল বিক্রি করে দীপুকে একত্রিশ লাখ টাকা দেন। কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে ফেইসবুকের অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের মৃত্যুর খবর জানান দিপু।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বলছে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর প্রতারণার শিকার অন্তত ২০ জন শরণাপন্ন হয়েছেন পুলিশের।

ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কর্মকর্তা আশরাফউল্লাহ জানান, বর্তমানে তার বয়স ২০ বছর হলেও সে ১৪ বছর বয়স থেকে প্রতারণা করে আসছে। সে যখন যেখানে সুবিধা পেয়েছে সেখানেই প্রতারণা করেছে।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯টি ভিন্ন নাম ব্যবহার করে ফেইসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নানা কৌশলে মানুষের কাছ থেকে দিপু হাতিয়ে নিয়েছে দুই কোটির বেশি টাকা।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, তদন্ত শেষে তার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও, আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে আসে আশরাফুল ইসলাম দিপু। উল্টো সে অভিযোগ করেছে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। যেসব অভিযোগ এখন তদন্তাধীন।