জিয়ার খেতাব বাতিলের প্রস্তাব মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা: বিএনপি

আইন ও কানুন

জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি নেতারা বলছেন জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার সামিল। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশাল কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-জামুকা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা সে সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তবে, সরকারিভাবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় তবে তা মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি চরম অসম্মান ও অবমাননার সামিল।

এর আগে, বুধবার সকালে গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জিয়া-মোস্তাকসহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী হিসেবে যাদের নাম এসেছে তাদের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য দেয়া রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করা হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একই মিটিংয়ে খন্দকার মোস্তাক, জিয়াউর রহমানসহ আরো অনেকের নাম এসেছে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত দালিলিক প্রমাণসহ। সেজন্য আমরা একটি উপকমিটি করেছি, আগামী মিটিংয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যায় কার কী ভূমিকা ছিলো, দালিলিক প্রমাণ আছে  সেগুলো পেশ করার জন্য। তাহলে তাদের যে সম্মানসূচক পদবি রয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে।’

এদিকে, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঠিক ৫০ বছর পর খেতাবপ্রাপ্ত ৬ মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেয়া বিশেষ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে, এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের পরই তাদের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। খেতাব বাতিলের গেজেট প্রকাশের পর তাদের পদক বাতিল ছাড়াও পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য কোনও ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।