এক দশকে সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধশত প্রবাসী নিহত

আন্তর্জাতিক

গত এক দশকে সৌদি আরবে বিভিন্ন কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় অর্ধশত প্রবাসী নিহত হয়। এসবের মধ্যে সোফা কারখানার সংখ্যা বেশি এবং এসবের বেশিরভাগ বাংলাদেশি দ্বারা পরিচালিত। এসকল কাজে সিংহভাগ শ্রমিক বাংলাদেশের। 

বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবরে রিয়াদের শিফা সানাইয়া এলাকায় একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দশজন বাংলাদেশি, ২০১৬ সালের এপ্রিলে পূর্বাঞ্চলীয় শহর জুবাইলের এক পেট্রোক্যামিক্যাল কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারায়। সেইসময় গুরুতর আহত হয়েছিল ১১ জন। একই বছর আগষ্টে রিয়াদের হারাজ বিন কাশেম মানফুহা এলাকার একটি সোফা কারখানায় ৪ বাংলাদেশী শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যায়। ঠিক তার এক বছর আগে দাম্মামের দাল্লা সানাইয়া এলাকার একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৪ বাংলাদেশি নাগরিকসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৪ সালের মে মাসে রিয়াদের সিফা সানাইয়ার আরেকটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার ৯ জন ও ফেনীর একজন সহ মোট দশজন নিহত হয়।

সবশেষ মদিনা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে হেরাজ মার্কেটের কাছে আল খলিল সড়কের পাশে অবস্থিত একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকান্ডে ৭ জন প্রবাসী নিহত হয়েছেন যার মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট সুত্রে জানা যায়, ১০ ফেব্রুয়ারী বুধবার রাত আনুমানিক ৪টার দিকে এ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়।

মদিনাস্থ উয়ুন থানা সুত্রে ৫ জন বাংলাদেশীর নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত ৫ বাংলাদেশীর পরিচয় নিশ্চিত করেন জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কাউন্সেলর আমিনুল ইসলাম। 

১- মিজানুর রহমান, পিতা- সুলতান আহমেদ, পাসপোর্ট নং- বিই০৯৬০৭৭৩ সাম্বিরপাড়া, ওয়ার্ড- ৯, লোহাগড়া, চট্টগ্রাম। ২- মোঃ আরাফাত হোসেন মানিক, পিতা- সুলতান আহমেদ, পাসপোর্ট নং- ইবি ০৪৫২৪৫৯ দক্ষিন শুকচারি, ওয়ার্ড- ৯, দরবার শরীফ, লোহাগড়া, চট্টগ্রাম। ৩-ইসহাক মিয়া, পিতা- জালাল আহমেদ, পাসপোর্ট নং- ইএ ০৫৭৮০০৫ ঘাতিভাঙ্গা, ওয়ার্ড-১, কুতুবজম, মহেশখালী,  কক্সবাজার। ৪- আব্দুল আজিজ, পিতা- কবির আহমেদ, পাসপোর্ট নং- বিএফ ০০৩৯০৫৯ ঘাতিভাঙ্গা, ওয়ার্ড-১, কুতুবজম, মহেশখালী,  কক্সবাজার। ৫- মোঃ রফিক উদ্দিন, পিতা- আবু গফুর, পাসপোর্ট নং- বিকিউ ০৪৫৬৫৬৬ ঘাতিভাঙ্গা, ওয়ার্ড-১, কুতুবজম, মহেশখালী,  কক্সবাজার।

এছাড়া স্হানীয় প্রবাসী সূত্রে আরেকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তার নাম সাইফুল ইসলাম, বাড়ি একই জেলার ঈদগাঁ জালালাবাদে। ঐ সূত্রে টেকনাফের আরেকজনের ছবি পাওয়া গেলেও নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান ও আরাফাত হোসেন মানিক সহোদর ভাই। 

তবে, অপর একজন বাংলাদেশীর পরিচয় সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে কনস্যুলেট জানায়। অগ্নিকান্ডে নিহতদের মৃতদেহ মদিনাস্থ কিং ফাহাদ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। নিহতদের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট তৎপর রয়েছে। 

মর্মান্তিক এ ঘটনায় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, মৃতদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। রাষ্ট্রদূত জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কাউন্সেলরকে দ্রূত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় বাংলাদেশীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে দূতাবাসকে অবহিত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এছাড়া স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন ও হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করে নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় ও মৃতদেহ দ্রুত দেশে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

রাষ্ট্রদূতের নির্দেশনায় দূর্ঘটনাস্হল পরিদর্শন এবং নিহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কাউন্সেলর আমিনুল ইসলাম সেখানে গিয়েছেন। 

এই ধরনের কারখানা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত অভিজ্ঞ প্রবাসীরা মনে করেন, সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডরোধে সেদেশের ফায়ার সার্ভিসের সকল নিয়মনীতি মেনে চললে এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা হ্রাস পাবে।