‘চলচ্চিত্রের আড়ালে অবৈধ ব্যবসা করতেন পরীমণি’

সংস্কৃতি ও বিনোদন

চিত্রনায়িকা পরীমণি চলচ্চিত্রের আড়ালে অবৈধ ব্যবসা করতেন। তার সঙ্গে এক নারী ও কস্টিউম ডিজাইনার জিমিও সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ। এদিকে ব্যক্তির অপরাধের দায়ভার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নেবে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

বুধবার (৪ আগস্ট) হঠাৎ করেই চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। তার বাসা থেকে বিপুল মাদকদ্রব্যসহ পরীমণি ও দীপুকে আটক করে তারা। ওইদিনই প্রযোজক রাজের বাসায় অভিযানেও মেলে বিপুল মাদকদ্রব্য। গ্রেপ্তার করা হয় রাজ ও তার এক সহযোগীকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বনানী থানায় তাদের হস্তান্তর করে র‌্যাব। পরে পরীমণির বিরুদ্ধে মাদক ও রাজের বিরুদ্ধে মাদক ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করা হয়। আদালত এই চারজনের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) সকালে পরীমণি ও রাজের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। পরে দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগে (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, পরীমণি একজন চিত্রনায়িকা। তিনি এর আড়ালে যে খারাপ ব্যবসাগুলো করতেন এবং এই ব্যবসাগুলোতে কারা তাকে পেট্রোনাইজ করেছেন, এ কথাগুলো তিনিও স্বীকার করেছেন। পরীমণির সঙ্গে জড়িতদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। আমরাও নজরদারি করছি। জিমিকেও হয়তো আমরা শিগগিরই গ্রেপ্তার করবো।

তিনি আরো বলেন, রাজ যাদের মনোরঞ্জন করাতেন তাদের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। আমরা তার সঙ্গে আরও বিস্তরিত কথা বলেছি। মূলত তার কোন লেখাপড়া নেই। তিনি একজন মূর্খ মানুষ। এখানে তিনি নিচু চাকরি করতেন। আজকে তিনি উপরের পর্যায়ে গেছেন। এটার জন্য দায়ী কিছু খারাপ প্রকৃতির মানুষ। রাজ আমাদের কিছু নাম বলেছেন- যাদের তিনি বিভিন্ন মডেল সাপ্লাই দিতেন। যেহেতু জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে, সেহেতু তিনি আমাদের কাছে আরও কিছু তথ্য দেবেন। সেসব মানুষের নাম আমরা পরে বলতে পারবো। তবে উচ্চ মধ্যবিত্ত বা বড় লোকের সন্তানদের নিয়ে এ কাজগুলো করতেন তিনি। মূলত ঘরোয়া পার্টিতে এসব হতো।

এর আগে উত্তরার বোটক্লাবের ঘটনায় আলোচনায় আসেন পরীমণি।

এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেছেন, শিল্পীর ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সমিতি নেবে না। শনিবার শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তার সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আমাদের সমিতির গঠনতন্ত্র বা সংবিধানে বলা রয়েছে- কোন অপরাধের কী শাস্তি। আমরা সভা করে সিদ্ধান্ত নেবো।