হলি ফ্যামিলিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বেতনে ব্যাপক অনিয়ম

বাংলাদেশ

প্রয়োজন নেই তবুও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেমতো দুই শতাধিক ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনে নিয়োগ দিয়ে এখন ডাক্তার-নার্সদের ঠিকমতো বেতনই দিতে পারছে না হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল।

নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। বেতন স্কেলেও আছে নানান অসংগতি। অনিয়মসহ নানা সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবার মানও নিম্নমুখী।

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ইস্কাটনে আট দশমিক পাঁচ একর জায়গার উপর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট কলেজ হাসপাতাল। যা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের নামকরা এই হাসপাতালটি নব্বই সাল পর্যন্ত উন্নত স্বাস্থ্য সেবাই দিয়ে আসছিলো। ৯১’তে বিএনপি সরকার গঠনের পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। দলীয় ব্যক্তিদের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় এই হাসপাতালে আত্মীয়করন শুরু হয়। নিয়োগ দেয়া হয় পছন্দের লোকজনকে।

গত তিন দশকে অপ্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের কারণে ঠিকমতো বেতন ভাতাই দিতে পারছে না হাসপাতালটি। সেবার মানও তলানিতে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনেরা জানান, রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় কোনকিছু চাইতে গেলে সেসব নাই বলে উল্লেখ করে। খাবারের মান ভালো না। টাকা পয়সা দিয়েও ভালো ট্রিটমেন্ট পাওয়া যায়না।

রেড ক্রিসেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান এবং হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটির আহবায়ক নূর উর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের ইনফরমেশন শাখায় ৪৫জন কর্মরত আছেন যাদের সুনির্দিষ্ট কোনো কাজই নেই। মেইনটেইন্স শাখায় ২৭জন কর্মরত অথচ হাসপাতালের সব মেইনটেইন্সের কাজ আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে করা হয়। অন্যান্য শাখায়ও একই অবস্থা। সবমিলে হাসপাতালে ৭১৮জন কর্মরত। যার মধ্যে ২০৮ জনের কোনো কাজ নেই।

বেতনখাতেও রয়েছে নানা অনিয়ম। ৮৭জন পিয়ন, সিকিউরিটি গার্ড ১৩তম গ্রেডে বেতন পান অথচ তাদের সর্বোচ্চ গ্রেড ১৬। নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ, পদোন্নতি, বেতন স্কেল প্রদান করা হয়েছে।

হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এস এম খোরশেদ মজুমদার বলেন, ‘অনেক কর্মকর্তা এখানে আছেন, যারা হাসপাতালের জন্য কোন কাজের না। আমাদের কাজের জন্য যখন কাউকে ডাকা হয় সেই কাজ করার জন্য কাউকে পাওয়া যায়না। তাদের বেতন কাঠামোও অনেক বেশি। যার কারণে, অনেকের বেতন ঠিক মতো দিতে পারছিনা।’

হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেই প্রয়োজনীয় অনেক চিকিৎসা সুবিধা। কেবল নামে মাত্রই রয়েছে একটি হৃদরোগ বিভাগ। বাইপাস সার্জারি, এনজিওগ্রামসহ জটিল কোনো হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই হাসপাতালটিতে। পুরো হাসপাতালে নেই কোনো এমআরআই মেশিন। সেবাগ্রহীতারা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতালের মতো তাদের অর্থ ব্যয় হলেও সে অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন না।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটি এখন হাসপাতালের নানা সমস্যা সমাধানে তৎপর হয়েছে। হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. এস এম খোরশেদ মজুমদার আরও বলেন, ‘রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন হলে এই হাসপাতালটি সুন্দরভাবে চলতে পারবে।’

ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে হাসপাতালটির আগের সুনাম ফিরে আসবে মনে করে কর্তৃপক্ষ।