এবার মসলা পাটা ও আচারের মধ্যে ইয়াবার চোরাচালান!

বাংলাদেশ

করোনা মহামারীতে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও থেমে নেই মাদক ব্যবসা। জরুরি পণ্য পরিবহণের ট্রাক, লাশবাহী গাড়ি, তেলের লরি, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে মাদক পরিবহণ করছে কারবারিরা। তবে এবার পরিবহণ-মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে পাটা। মসলা পেষার এই মাধ্যম ব্যবহার করে কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যাচ্ছে ইয়াবা। সম্প্রতি ষোলো হাজার ইয়াবা ভর্তি শিলপাটাসহ একজনকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শহরের রান্নাঘরে কদর কমে এলেও এখনো গ্রামবাংলায় মসলা পেষায় পাটাই প্রধান মাধ্যম। অবাক হলেও সত্য যে, এবার ইয়াবা পরিবহণে পাটাকেই বেছে নিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর মগবাজার থেকে মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাটা উদ্ধার করে সেটি ভাঙতে শুরু করেন রমনা বিভাগের গোয়েন্দারা। বালু-সিমেন্টের জমাট খুলতেই বেরিয়ে আসতে থাকে ইয়াবার একেকটি প্যাকেট। সব মিলে উদ্ধার হয় ১৬ হাজার নেশাজাতীয় বড়ি।

একমাত্র আসামি শফিক মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে সম্প্রতি পাটার মধ্যে ইয়াবা পরিবহণ শুরু হয়েছে। কক্সবাজার থেকে মাদক কিনে পাটা কারিগরের কাছে চলে যান অন্য এলাকার কারবারিরা। তারপর প্যাকেট করা ইয়াবা ভেতরে রেখে তৈরি করা হয় পাটা।

এদিকে, আরেকটি অভিযানে আচারের মধ্যে থেকে ইয়াবা উদ্ধার করেছে লালবাগ বিভাগের গোয়েন্দারা। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা কেনার পর বার্মিজ আচারের প্যাকেট কেনেন রবিউল ইসলাম। পরে ইয়াবাগুলো আচারের প্যাকেটে ঢুকিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি। গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ার পর আচারের প্যাকেট থেকে উদ্ধার হয়েছে তিন হাজার ইয়াবা বড়ি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, কারবারিদের নিত্যনতুন পরিবহণ কৌশলকে পরাস্ত করে মাদক উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

দুই আসামির কাছ থেকে কক্সবাজার, ঢাকা ও কুষ্টিয়া এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।