আইপিসিসি’র প্রতিবেদন সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক

মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে জলবায়ুতে নজিরবিহীন পরিবর্তন হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।

ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের প্রতিবেদনে দেশে দেশে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা এবং রেকর্ড তাপমাত্রার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনকে মানবজাতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

১৮৫০ সালের পর গেল ৫ বছর ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম। গবেষকরা জানান, দুই হাজার বছরের মধ্যে ১৯৭০ সালের পর থেকে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আর ২০ বছরের মধ্যেই দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস আর ৫০ বছরের মধ্যে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জরুরি অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। সামনে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে এর প্রভাব। বাড়তে থাকবে সমুদ্রের তাপমাত্রা। মৃত্যু হবে জলজ প্রাণিদের। নতুন নতুন অঞ্চলে দেখা দেবে দাবানল। পুড়ে যাবে বনাঞ্চল। আগামী শতকে সমুদ্রের পানি বেড়ে বন্যা, সুনামির মত দুর্যোগ প্রতিবছরই দেখা যাবে, যা আগে শতাব্দীতে একবার করে হতো।

২০৫০ সালের মধ্যে অন্তত এক বছর সম্পূর্ণ বরফশূন্য হবে উত্তর মেরু অঞ্চল। এছাড়া এমন সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে আগে কখনোই দেখা যায়নি। প্রতিবেদন বলছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ অর্ধেকে এবং এ শতাব্দীর মাঝামাঝি শূন্যে নামিয়ে আনতে পারলে তাপমাত্রার লাগাম টানা সম্ভব হবে। এমনকি অনেকাংশে তা আবার আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হতে পারে বলেও আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।