মেঘনার দুর্গম চরে সমন্বিত চাষাবাদে ব্যাপক সাড়া

বাংলাদেশ সকল জেলা

চাঁদপুরে মেঘনা নদীর দুর্গম চরে সমন্বিত চাষাবাদে বিপ্লব ঘটিয়েছেন স্থানীয় এক উদ্যোক্তা।

যেখানে বছরে একবার ফসল ফলাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে পরিকল্পিত চাষাবাদে সারা বছরই ফলানো হচ্ছে নানান শাক-সবজি ও ফল। চরের পুকুরে হচ্ছে মাছচাষ। বছর না ঘুরতেই প্রতিদিন আয় হচ্ছে এক লক্ষ টাকা।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার এক দুর্গম জনপথ নীলকমল চর। মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা এই চরে যাওয়ার একমাত্র উপায় নৌকা কিংবা জলযান। চরের অধিকাংশ জমি বর্ষায় তলিয়ে থাকতো পানির নিচে। এমন অবস্থায় বছরে একবার ফসল ফলানোই ছিল কষ্টসাধ্য।

নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে বদলে গেছে এত দিনের সেই চিত্র। শুধু শীত মৌসুমেই নয়, এখন সারা বছরই চাষাবাদ হচ্ছে এখানে।

কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সর্দার বলেন, প্রথমে আমরা খুব অল্প পরিসরে সামান্য উদ্যোগ নেই। যখন আমরা সাফল্য পেয়েছি তখন আমরা আরেকটু ব্যাপক পরিসরে শুরু করেছি।

পৈতৃক ১২০ একর জমির মধ্যে ৭০ একর জমিতে চাষাবাদ করছেন বিভিন্ন শাক-সবজি ও হরেক রকমের ফল। বর্তমানে এখানে আম, কাঁঠাল, তরমুজ, কলা, শসা, করলা, লাউ, বেগুন, চালকুমড়া, বরবটি, ঝিঙেসহ নানান তরিতরকারির চাষাবাদা হচ্ছে। একাধিক ঝিলে করা হচ্ছে মাছ চাষ। 

এখানে স্থায়ীভাবে কাজ করছেন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। এছাড়াও ৩০ থেকে ৪০ জন কাজ করছেন অস্থায়ীভাবে।  

স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা আশা করছি এভাবে আরও উদ্যোগ নিয়ে এই এলাকায় কৃষির আরও উন্নয়ন হবে। এখানে যদি আরও কৃষি কর্মকর্তা দেয়া যেতো তাহলে এই কার্যক্রম আরও বেগবান হতো।