বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক পদক্ষেপ সফল হলে আরও জনপ্রিয় হতেন

বাংলাদেশ

ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য নয়, জাতির পিতা দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন শুধুমাত্র দেশ ও দেশের মানুষের সত্যিকারের উন্নতির জন্য।

বছরখানেক সময় পেলেও বঙ্গবন্ধুর এই দূরদর্শী ও সুচিন্তিত রাজনৈতিক পদক্ষেপের সুফল পেত বাংলার জনগণ। কিন্তু শত্রুপক্ষ জানতো বঙ্গবন্ধু ঘোষিত দ্বিতীয় বিপ্লব সফল হলে তার জনপ্রিয়তা যে উচ্চতায় উঠবে সেখান থেকে নামানো হবে অসম্ভব। ফলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা একমাত্র বিকল্প হিসেবে নিয়েছিল খুনিরা।   কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর শেষ দিনগুলো? 

বঙ্গবন্ধু সকালে গণভবনে এসে প্রথমেই গোয়েন্দা প্রধানদের কাছ থেকে রিপোর্ট নিতেন। এর বাইরেও দলের কিছু বিশ্বস্ত মানুষও রিপোর্ট দিতেন বঙ্গবন্ধুকে। কিন্তু জেনেবুঝেও বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি জাতির পিতা। 

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুইজন বিশ্বস্ত দলগত গোয়েন্দা নুরুল ইসলাম এবং আবুল খায়ের। তারা খন্দকার মোস্তাকের মতি গতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন। তিনি এগুলো দেখেও তেমন পাত্তা দিতেন না।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বিশ্বব্যাপি মূদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি দেশবিদেশের অপশক্তির কারণে বারবার পিছিয়ে পড়তে হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। তিনি দেখলেন দেশকে এগিয়ে নিতে বিকল্প পথে এগোনো ছাড়া উপায় নেই। সুদুরপ্রসারী চিন্তা করে জাতির পিতা ডাক দিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের। 

বঙ্গবন্ধুর আরেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ড. মসিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর চতুর্থ সংশোধনী করার আগে গভীরভাবে এবং বারংবার তার দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তৃণমুলের মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং তাদের সমর্থন নিয়েই রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করা হয়। এই নীতি থেকে বঙ্গবন্ধু কখনো সরে আসেননি।

পঁচাত্তরের ১১ই আগস্ট ছিল সোমবার। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এদিন বাকশালের ৬১ জন জেলা সম্পাদকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৬ই আগস্ট।  

শিশুদের উপর চলচ্চিত্র তৈরি করতে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন দুই বৃটিশ চলচ্চিত্র পরিচালক। তারা ব্রিটেনে ফিরে এদিন গণমাধ্যমকে বলেন, বাঙালীরা স্বদেশের জন্য গর্বিত। বঙ্গবন্ধুর উপর পূর্ণ আস্থা রেখে তারা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। 

১১আগস্ট সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধুর  সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলী। এই সাক্ষাতের ৪দিন পর খুনী মোশতাকের মন্ত্রীসভায় যোগ দেন তিনি। পরে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভায়ও শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন ইউসুফ আলী। 

দিনের বেলায় এসব সাক্ষাৎ হত গণভবনে। রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে ফিরেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন বঙ্গবন্ধু। দেখা করতেন সাধারণ মানুষদের সঙ্গেও।