৫০ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা: ফেব্রুয়ারিতেই যাত্রা

মোট দেখেছে : 36
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদে মানবযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থার এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) ব্যবহার করে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘আর্টেমিস ২’ মিশনটি উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের দিকে যাত্রা করবে। প্রায় ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার মাইলের এই যাত্রায় চারজন নভোচারী অংশ নিচ্ছেন। ১০ দিনের এই মিশনে তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবেন। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই মিশনকে "বিগত অর্ধশতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানব মহাকাশযাত্রা" হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আর্টেমিস ২ মিশনে অংশ নেওয়া চার নভোচারীর মধ্যে রয়েছেন, রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।

এই মিশনের মাধ্যমে ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে চন্দ্রাভিযানে নাম লেখাতে যাচ্ছেন। যদিও তারা চাঁদের বুকে পা রাখবেন না, তবে তাদের এই সফল পরীক্ষা আগামী বছর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের অবতরণের পথ প্রশস্ত করবে।

প্রায় ১০০ মিটার লম্বা এই এসএলএস রকেটটি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুল ভর্তি তরল জ্বালানি বহন করতে সক্ষম। এটি মহাকাশযানটিকে ঘণ্টায় ২৪,৫০০ মাইল বেগে চাঁদের দিকে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ৫ হাজার টন ওজনের এই রকেটটিকে বিশাল এক যানে করে অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে ৪ মাইল দূরের উৎক্ষেপণ মঞ্চে (লঞ্চপ্যাড) নেওয়ার কাজ চলছে।

উৎক্ষেপণের আগে নাসা একটি ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ বা মহড়া পরিচালনা করবে, যেখানে রকেটে ৭ লক্ষ গ্যালনের বেশি জ্বালানি ভরে সব সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে। মিশনের ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রধান জন হানিকাট বলেন, প্রযুক্তিগত কোনো ত্রুটি বা আবহাওয়া প্রতিকূল হলে আমরা বিকল্প তারিখ ব্যবহার করব। নভোচারীদের নিরাপত্তাই আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই চন্দ্রাভিযানকে অনেকেই দ্বিতীয় ‘স্পেস রেস’ বা মহাকাশ যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে চীনের ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যের বিপরীতে আমেরিকা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে মরিয়া। আর্টেমিস ২ সফল হলে ২০২৭ সালেই আর্টেমিস ৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নভোচারীদের নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার।

আরো দেখুন

সর্বশেষ ফটো